Importance of Finding Yourself

ইংরেজিতে একটা সুন্দর এক্সপ্রেশন আছে Affluent। কোন কোন শব্দ শুনতে খুব ভালো লাগে, তেমন কোন কারন ছাড়াই! Affluent আমার কাছে তেমন একটা শব্দ। মিনিং তো সবাই জানে, তবুও ক্লারিফিকেশনের জন্য বলি, Affluent মানে শুধুই ঐশ্বর্যবান বা ধনী, এমন না! Affluent এর সত্যিকার অর্থ হল বনেদী। খানদানী! মানে, টাকা পয়সা থাকার পাশাপাশি যাদের জ্ঞান বিদ্যা আছে, প্রভাব প্রতিপত্তি আর সামাজিক মর্যাদা আছে।

.

নতুন এই শতাব্দীতে এসে আমরা মানুষে মানুষে বিভেদ ভুলেছি। সময়েরই দাবি। এখন আশরাফ – আতরাফ বলে কিছু নেই, ব্যক্তিটি কেমন সেটা হয়ে পড়েছে আসল মাপকাঠি! কিন্তু আসলেই কি কোন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব শুধু সফলতা দিয়েই তৈরি হয়ে যায়? পারিবারিক পরিমণ্ডল বা তিনি কতটা Affluent সমাজে বড় হয়েছেন, এটার কোন প্রভাব থাকে না?! অনেকেই পারেন বিগত জীবনের সীমাবদ্ধতাকে পাশ কাটিয়ে সময়ের সাথে সাথে নিজেকে Affluent স্তরে উন্নীত করতে। কিন্ত আমাদের অনেকেরই সেটা সম্ভব হয় না।

.

মজার ব্যাপার হল, একটা সময় পৃথিবীতে ঘটা করে Affluent হবার গ্রুমিং করানো হত তরুণ প্রজন্মকে। কি ইউরোপ- কি উপমহাদেশ! ভালো ফ্যামিলির মেয়েদের ভালো বিয়ের জন্য তৈরি করা হত। শেখানো হত গান বাজনা সহ নানা রকম নহবত সহবত! হাই ক্লাসের সাথে কিভাবে চলতে ফিরতে হয়, কথা বলতে হয়, কিভাবে পোশাক আশাক ক্যারি করতে হয় সব শেখানো হত। টেবিল ম্যানার, সোশ্যাল ম্যানার, এসব তো আছেই। সেই সাথে ঘরোয়া আড্ডায় যেন সাবলীল ভাবে জ্ঞান বিজ্ঞানের গল্প করতে পারে, সে রকম শিক্ষাও দেয়া হত। ছেলেদের ক্ষেত্রে ধরে নেয়া হত যে Affluent আচরনের বেশ খানিকটা চর্চা তারা বাড়ির বাইরেও করতে পারে, তবুও তাদেরও গ্রুমিং হত না তা নয়! জেন অস্টিনের ক্ল্যাসিক বই গুলোতে বা আমাদের শেষের কবিতায়ও পড়েছি, Affluent হবার বা Affluent সমাজে চলার কেতা কায়দা কিভাবে পারিবারিক ভাবে শেখানো হয়েছে।

.

বিভিন্ন সময়ে আমরা বিবাহিত শিক্ষিত মেয়েদের চাকরি না করা, বা অর্থনৈতিক কোন কাজে সম্পৃক্ত না থাকাকে সমালোচনা করি। কিন্তু বাস্তবতা হল, সব সময় এটা এতটা সহজ না। নিরুপায় হয়েই বহু শিক্ষিত মেয়ে হোম মেইকারের পদে নিজেকে রাখতে বাধ্য হয়।

এমনকি কোন কোন সময় একজন হোম মেইকারেরই দরকার থাকে সমাজের জন্য! ডিফেন্স, এডমিনিস্ট্রেশন, সিভিল সার্ভিস, কর্পোরেট, ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট, পলিটিক্স সহ বিভিন্ন ধরনের Affluent পরিবারের নারী, তথা স্ত্রী’টি বিনা বেতনেই কিছু অনারারি পদের অধিকারী হন বা দায়িত্ব পালন করেন। কখনো জেলা মহিলা সমিতি, কোন সময় স্পাউসেস এ্যাসোসিয়েশন, বা কোন সময় স্বামীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ভূমিকা পালন করেন।

একজন বারাক ওবামার চাইতে একজন মিশেল ওবামা কোন অংশে কম জ্ঞানী বা কম জনপ্রিয় নন! মিশেল দারুন ভাবে জানতেন নিজেকে Affluent সমাজে স্থাপন করা। ফার্স্ট লেডি যে শুধু এমেরিকায় আছে তা নয়, ভালো পদে থাকা স্বামীদের স্ত্রীরা অঘোষিত ভাবেই এক ধরনের ফার্স্ট লেডি! তারা চাকরি না করুক, স্বাবলম্বী না হোক, তাদের সক্রিয় ভুমিকার উপরেও স্বামীর পেশাগত অগ্রগতি ভীষণ ভাবে নির্ভর করে। ফলে তাদের গ্রুমড হওয়া, একজন কর্মজীবি নারীর মতই জরুরি।

তাই ভালো ফ্যামিলিতে এস্টাবলিশড পাত্রের কাছে বিয়ে হয়েছে এবং চাকরি করার নিষেধাজ্ঞা আছে বলে, হাত গুটিয়ে মন খারাপ করে ঘরে বসে থাকার কিছু নেই। আবার একটা ভালো বিয়ে হয়ে ভবিষ্যৎ এর গতি হয়ে গেছে ভেবেও, সব ছেড়ে দেয়ার উপায় নেই। একটা শিক্ষিত মেয়ের তখনো অনেক সুযোগ থাকে সমাজের জন্য কিছু করার আত্মউন্নয়নের মাধ্যমে।

শুধু বাসা আর বাচ্চাদের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজের গ্রুমিং এর দিকে নজর দিলে এটা স্বামীর কাজেও ভীষন ভাবে সহায়ক হয়।

ছোটবেলায় নাচ গান অভিনয় ছবি আকা এসবের অভ্যাস থাকলে, সে শখ গুলো পূনজ্জীবিত করা যায়। রান্না বান্নায় যাদের আগ্রহ, তারা নানা দেশের কুইজিন, টেবিল এটিকেট সহ হসপিটালিটির উপর কিছু পড়াশোনা করতে পারে। বই লিখতে বা ভ্লগ এ সময় দিতে পারে।  ইন্টেরিওর ডিজাইনিং সহ ঘর সাজানো, মেইক ওভার, এসবে একটা সার্কেল মেইনটেইন করতে পারে। যাদের বই পড়ার শখ তারা বিভিন্ন পাঠচক্র, লেখকদের সমাবেশ এ ধরনের বুদ্ধিজীবী শ্রেনীর মধ্যে নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে। সমমনা নারীরা মিলে চ্যারিটি করা, বুটিক বিজনেস করা, বা নিদেন পক্ষে লেডিস গ্রুপ করে দেশ বিদেশ ঘুরতে যেতে পারে।

মানে, পরিবর্তিত পৃথিবীর সাথে নিজের মননকে মানানসই করার এই চর্চা অব্যহত রাখতে পারে সংসারের পাশাপাশি। এই স্বার্থপর  পৃথিবীতে প্রতিটা মানুষের প্রাসঙ্গিকতা থাকতে হয়। “কেন আমি জরুরি!” – এই প্রশ্নের উত্তর নিজেকেই খুঁজে বের করতে হয়। নয়ত একদিন দেখা যাবে, স্বামী সন্তান সবাই এগিয়ে যায়, আর ওদের ভাবনায় ডুবে থাকা স্ত্রী- মা, রয়ে যায় পেছনে। এবং একা!

আমার অভিজ্ঞতা ভালো। কাছে বা দূরে থেকে বিভিন্ন সময়ে যত হাই প্রোফাইল ব্যক্তিত্ব দেখেছি, তাদের সবার স্ত্রীদের ভীষন ইম্প্রেসিভ,শিক্ষিত, গ্রুমড পেয়েছি। অনেক সময় এদের অনেককে জ্ঞানের দিক থেকে স্বামীর চাইতেও তুখোড় মনে হয়েছে! তাদের দেখেই ভাবনা হত আমাদের আগামী প্রজন্ম কি এত ওয়েল গ্রুমড পরিবেশ পাবে?! স্ত্রী হিসেবে যারা নিজের জীবনটা পরিবারের সুখের জন্য ত্যাগ করেন। তারা যেন জানেন যে, এ জীবন শুধু ত্যাগের জন্য নয়। এখনো সময় আছে নিজের দিকে তাকানোর। সুযোগ আছে নিজের গুরুত্ব বাড়ানোয়!

About the Author:

Developer Herwill

Developer Herwill

Leave a Reply

Your email address will not be published.