Obstacles in Life

প্রতিবন্ধকতা

মানুষের জন্য জীবনের সব অনেক সময় ব্যয় করেছন। রং,রেখা আর সাহিত্যে জন্য সময় দেন । তাঁরা আপনাকে দিবে অনেক শান্তি, শান্তনা আর আনন্দ। মানুষ প্রতারণা করবে আপনার সাথে কিন্তু চিত্রকলা , কবিতা কিংবা সাহিত্য আপনার সাথে কখনোই প্রতারণা করবে না। তাই এদের সান্নিধ্যে সময় কাটানো সবচেয়ে ভালোলাগার, সবচেয়ে আনন্দের ।

আপনি ছবি আঁকতে ভালবাসেন আর এটা করে শান্তি পান তাহলে হাজার কাজ সবাই আপনার জন্য রেডি করে রাখবে যাতে আপনি আপনার পছন্দমতো কাজটি করতে না পারেন। আপনার জন্য কেউ সময় বের করে দিবে না । আর আপনি নারী হলে তো কথাই নেই । নারীর জন্য জগতের সকল কাজ নিষিদ্ধ । আমাকে কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করে আপনার স্টুডিও আছে? আমি হাসি? আমাকে কেউ স্টুডিও করে দেবে এই মানুষ কি বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে !! পৃথিবীটাই আমার স্টুডিও । আর আমার কোন সময় দরকার নেই ছবি আঁকার । যখন খুশি ক্লাসের ফাঁকে, রান্নার ফাঁকে কিংবা মধ্যরাতে ঘুম থেকে উঠে আমি ছবি আঁকা শুরু করি । ভালোবাসার জন্য কি সময় দরকার? যে কোন সময় আপনি ভালোবাসতে পারেন। অবশ্যই পুরুষ নয় রং তুলিকে কিংবা সাহিত্যকে।

আপনি কোন কিছু করে আনন্দ পাচ্ছেন, আপনাকে আপনার আশেপাশের মানুষেরা সেটা করতে দিবে না ।আপনি ছবি তুলতে খুব ভালবাসেন । আশেপাশের প্রকৃতির আর আমার নিজের ও। এটাই সবার মাথা ব্যথার কারণ হয়ে যাবে । আপনি সুন্দর করে সেজে কোথাও যাবেন আর ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিবেন । আর এই ছবি দেখে সবার শুরু হয়ে যাবে জ্বালা, ভেতরে ভেতরে তুষের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে সবার হৃদয় । আপনি যদি ছবি তুলে আনন্দ পান , করুন না। কারো তো ক্ষতি করছেন না? তাহলে কেন তাদের মাথাব্যথা??? এর নাম ঈর্ষা ।

একসময় খুব সিনেমা দেখতে ভালবাসতাম । টিভির রিমোটটা হাতে নিয়ে বসে একটু শান্তিতে সিনেমা দেখবো এটা কোনদিন সম্ভব হয়নি । মনের কষ্টে নিজের টাকায় আরেকটা টিভি কিনেছিলাম তাও সমস্যার সমাধান করতে পারিনি।এই কাজ ওই কাজের অর্ডার চলে আসতো যাতে শান্তি করে টিভিও দেখতে না পারি। মনে হতো সংসার ছেড়ে কোথায় চলে যাই। সংসার তো ছাড়তে পারবো না তাই এখন টিভি দেখা ছেড়ে দিয়েছি । আপনার আনন্দের কোন কাজ বিসর্জন দিলেন এখন সবাই খুশি । কিন্তু আপনার কষ্টটা কেউ বুঝতে পারবে না।

আপনি ঘুরতে ভালো বাসেন ? সারাবছর চাকরী আর সংসারের জন্য সময় দেন বছরে একটু কোথায় ঘুরতে যাবেন তা হবে না। কারন মেয়েদের কোন সখ থাকতে নেই। অনেক কষ্টে হয়তো রাজি করিয়েছেন ব্যাগ ও গুছিয়ে ফেলেছেন। হয়তো দেখবেন আপনার স্বামীর অফিসের কাজ পড়ে গেছে অথবা টাকাটা হঠাৎ ছিনতাই হয়ে গেছে ।এখন যাওয়া হবে না। তারপর যদি যান ও সেখানে হাজারো কথা শুনবেন স্বামীর অথবা শ্বাশুড়ীর। সংসারে মন নেই?

অথবা আপনি ঘুরতে ভালো বাসেন তাই বন্ধুদের সাথে কোথায় যাওয়ার প্লান করেছেন সেটা ও সমস্যা। আপনি তো মেয়ে স্বামীকে ছাড়া একা একা কেন যাবেন? স্বামী বলবে না কোথাও যেতে পারবে না অথবা তোমার যাওয়ার দরকার কি? স্বামীকে নিয়ে যাবেন? তার সময় কোথায়। আর একা একা যাবেন তাহলে সমাজের হাজারো প্রশ্ন? একা কেন? স্বামীর সাথে মনে হয় ঝামেলা চলছে অথবা কারো সাথে আপনি পরকীয়া করছেন। এমন হাজারো সমস্যা।

খুব বই পড়ার শখ ছিল ছোটবেলায়। টাকা জমিয়ে বই কিনতাম। সারাদিন ঘরে বসে ছবি আঁকতাম, বই পড়তাম আর টিভি দেখতাম। মা বাবার আছে অগাধ ভালোবাসা তাই কোন কিছুই তখন বাঁধাপ্রাপ্ত হয়নি। মা বাবার সংসারে মেয়েরা রাজকন্যা। ঠিক তার উল্টোটা আপনার বিয়ের পরে। সংসারের সকল দায়িত্ব আপনার ঘাড়ে ফেলে সবাই স্বাধীন। আপনার ভাললাগা না লাগায় কিছু এসে যায় না এখানে। কারণ আপনি নারী আপনাকে সব মেনে নিতেই হবে। সংসার ছেড়ে যাওয়ার কি উপায় আছে? আপনি জগতের সব আনন্দ সুখ বিসর্জন দিবেন কিন্তু সংসার টা দিতে পারবেন না। যদি দিয়েছেন তো এই সমাজের কাছে আপনি সবচেয়ে খারাপ মেয়ে বলে গণ্য হবেন। এই মেয়ে ভালো না স্বামীর সংসার করতে পারেনি। স্বামীর হাজার টা সমস্যা থাকুক কি আসে যায়। সব সমস্যা তোমার, তুমি মানিয়ে নিতে পারোনি। পুরুষের কোন সমস্যা নেই। সব সমস্যা নারীর। নারীর মরেও শান্তি নেই।

দরজা এখনো বন্ধই আছে , শুধু নারীর জন্য। তবে আমাদের নারীদের উচিত বন্ধ দরজাটা খোলার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া।

About the Author:

Developer Herwill

Developer Herwill

Leave a Reply

Your email address will not be published.