কিভাবে নারীদের স্টেম নিয়ে পড়াশুনার প্রতি আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা যায়?

১৬ বছর বয়সী মেয়েদের বিজ্ঞানীর ছবি আঁকতে বলা হলে মাত্র ২৫ শতাংশ মেয়ে কোন নারী বিজ্ঞানীর ছবি আঁকে। গবেষণায় আরো জানা যায় যে, ১৫ বছর বয়সের মধ্যেই মেয়েরা সায়েন্স, টেকনোলোজি, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাথেমেটিক্স (“স্টেম) সংক্রান্ত বিষয়ে পড়াশোনা করার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, যা ছেলেদের ক্ষেত্রে হয় না।


স্টেমকে সাধারণত পুরুষদের বিষয় হিসেবে দেখা হয়। মেয়েরা কি করবে অথবা করা উচিত সেই ব্যাপারে সামাজিক রীতিনীতি মা-বাবা এবং শিক্ষকদের প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করে। তাঁদের সনাতন ধ্যান-ধারণার কারণে মেয়েরা স্টেম বিষয়ে নিরুৎসাহিত হয়।
প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রগতি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন ইত্যাদিসহ সমাজের সবকিছুকেই প্রভাবিত করছে এবং এটি আমাদের ভবিষ্যত তৈরি করবে। স্টেম-এ পড়াশুনা না করলে নারীদের বেকার থাকার আশঙ্কা আছে। তাঁরা অল্প বেতনের চাকরি করতে বাধ্য হবেন এবং তাদের কিছু পেশা হয়তো স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির কারণে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আমরা যদি আগামী পৃথিবী সৃষ্টিতে নারীদের সমান অংশগ্রহণ চাই তাহলে অবশ্যই স্টেম শিক্ষা এবং পেশায় তাঁদের উৎসাহিত করতে হবে। এজন্য যা করা প্রয়োজনঃ

  • যেসব মেয়েরা স্টেম বিষয়ে আগ্রহী তাদের প্রায় অর্ধেকই স্টেম সংক্রান্ত পেশায় সফল কোন নারীকে চেনে না। তাই মেয়েদের সামনে স্টেম ক্ষেত্রে সফল নারী রোল মডেলদের তুলে ধরতে হবে। স্টেম পেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত নারীরা মেয়েদের পরামর্শ দিতে এবং মেন্টরিং করতে পারেন।
    -শিক্ষকরা যখন মেয়েদের সাথে স্টেম নিয়ে কথা বলেন এবং তাঁদের উৎসাহ দেন তখন তারা এই বিষয়গুলিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তাঁরা যদি কিছুদিনের জন্য স্টেম বিষয়ে হাতে-কলমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে তাহলে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মেয়ে শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ করে দেয়া প্রয়োজন।
  • মা-বাবার দায়িত্ব ছেলে এবং মেয়েশিশুদের সমানভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করা যাতে তারা নারী এবং পুরুষের কাছে সমাজের প্রত্যাশিত আচরণের সঙ্কীর্ণ গন্ডিতে আবদ্ধ না থাকে।
    -রাষ্ট্রকে এমন নীতি প্রণয়ন করতে হবে যাতে কর্মজীবী মা-বাবা সন্তান বড় করার জন্য সবেতন ছুটি পান। কর্মক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যাতে নারী ও পুরুষ উভয়ই পেশাগত কাজ এবং সন্তান বড় করাসহ ঘরের কাজের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
  • গণমাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল নারীদের জীবন সংগ্রাম বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। সমাজের সবাইকে দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এনে নারীদের পড়াশোনা ও পেশাগত অর্জনগুলিকে গুরুত্ব দেয়া শিখতে হবে।

About the Author:

Developer Herwill

Developer Herwill

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *