Mohua Dey- Depression

অনেক আগে TV তে একটা বিজ্ঞাপন দেখাতো, জানিনা কতজন এটা দেখেছেন, যারা এযুগের তারা হয়তো দেখেন নি। বিজ্ঞাপন টা ছিল সম্ভবত (ভুল হলে দুঃখিত) সিবা গেইগী র ।যেখানে দেখানো হত একটা মেয়ে খুবই হতাশ, মন খারাপ করা মুখ নিয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে.. বলা হত আপনি কি বিষন্নতায় ভুগছেন? তারপর একটা ঔষধের কথা বলা হত। যাই হোক মূলত বিষন্নতা একধরণের নীরব ঘাতক যা ব্যক্তি কে মানসিক ভাবে  তো বটেই শারীরিকভাবে ও দুর্বল করে দেয়।

মূলত বিষন্নতা হচ্ছে একটি দুঃখের অনুভূতি, মনোবিজ্ঞানে বলা হয়, এই অনুভূতি এতটাই প্রবল যে ব্যক্তি প্রায়শই তার স্বাভাবিক কাজ বা জীবনযাপনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।সংক্ষিপ্তভাবে বিষন্নতা কে এভাবে বোঝানো যেতে পারে।

বিভিন্ন কারণে বিষন্নতা মানুষের জীবনকে যন্ত্রনাদায়ক করে তুলতে পারে, মানুষ বাঁচার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হল.. সফলতা নিয়ে একধরনের উদ্বেগ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছোটবেলা থেকেই শিশু রা একধরণের তুলনার মধ্যে দিয়ে বড় হয়। অন্যের চেয়ে তার অবস্থান কতটা খারাপ বা ভাল এটা পরিবার বা পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে শুনতে শুনতে ই শিশুটি র মধ্যে সফলতার চিন্তা একধরনের উদ্বেগ তৈরি করে, সাথে কোন কাজে সফল হতে না পারলেই তার মধ্যে খারাপ লাগাগুলো জমা হতে হতে বিষন্নতা তৈরি হয়।

আবার, সফলতা কে যেহেতু অন্যের চেয়ে এগিয়ে থাকা মনে করা হয়, আর্থিক বা সামাজিক পদমযাদার দিক থেকে সুতরাং অনেকের মধ্যে ই এটা একধরণের প্রতিযোগিতা তৈরি করে। এই প্রতিযোগিতায় ব্যক্তি অনেক কিছু পেছনে ফেলে ছুটে চলে একধরণের মোহ নিয়ে। এই ছুটে চলার কারণে ব্যক্তি তার ভালো লাগার কাজ, ভালো লাগার মানুষ সবকিছু থেকে ই আলাদা হয়ে যায় এবং একসময় জীবন তার কাছে অর্থহীন এবং আনন্দহীন হয়ে ওঠে এবং তৈরি হয় বিষন্নতা।

অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তি র নামই বলা যায় যারা জীবনে চরম সফল হয়েও বিষন্নতা র স্বীকার হয়েছেন। তাহলে অবশ্যই সফলতা জীবনের একটি দিক হলেও এটাই চরম প্রাপ্তি এই মনোভাব তৈরি যাতে না হয় সেটা ছোটবেলা থেকেই অভিভাবকদের মাথায় রাখতে হবে।

অন্যের সাথে তুলনার বিষয়টি অবশ্যই বাদ দিতে হবে। প্রতিটি ব্যক্তি আলাদা, প্রতিটি ব্যক্তির জীবনের গল্পগুলো আলাদা ভাবেই তৈরি হয়। একজন যে সুযোগ পায় অন্য জন তা পায়না সুতরাং তাদের সফলতার গল্পগুলো কখনো এক হবেনা।

প্রকৃতপক্ষে কাজ করে যাওয়া ই হচ্ছে সবচেয়ে উপযুক্ত। ফলাফল কি হবে সেটা না ভেবে বরং ব্যক্তি যদি তার ভালো লাগা থেকে যে কোন কাজ করতে থাকে তখন তার জন্য সুযোগ তৈরি হয়, আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় যা জীবনে বেঁচে থাকার জন্য ব্যক্তি কে আগ্রহী করে তোলে।

অন্যের সাথে নিজের সফলতা কে তুলনা না করে নিজের অবস্থান থেকেই সামনে এগিয়ে যাওয়া ই হচ্ছে বিষন্নতা কে মোকাবেলার অন্যতম হাতিয়ার।  বেঁচে থাকাটাই এক অর্থে সফলতা। নিজের মানসিকতাকে, মনকে ইতিবাচক  নির্দেশে চালাতে হবে, নেতিবাচক সংকেত দিলে নেতিবাচক বিষয়গুলো ই ঘটবে।

আত্ম উপলদ্ধি এবং আত্ম স্বীকৃতি খুব জরুরি দুইটি শব্দ। এই দুটি শব্দ কে মাথায় রেখে যদি ব্যক্তি তার লক্ষ্য নির্ধারন করে এবং থেমে না থেকে সেই লক্ষে কাজ করে তাহলে ব্যক্তির জীবনযাপন  সুন্দর হবে, বিষন্নতা কে প্রতিহত করা যাবে।

পরিশেষে সফলতা র মোহে কেউ যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী না হই সে বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।জীবনে কোন ব্যক্তি তার ছোট, বড় যে কোন কাজের মধ্যে দিয়ে যদি একজন মানুষের মনেও অবস্থান করে সেটা ও সফলতা র ই নিদর্শন যা কখনও পদমরযাদা দিয়ে পরিমাপ করা যায়না।

সুতরাং আমরা অসহিষ্ণু হয়ে সফলতা র কামনা করে জীবনকে দুরবিসহ না করি। বরং নিজের অবস্থান নিযে খুশি থেকে ইতিবাচক ভাবে জীবন গঠনে মনোযোগী হই।

About the Author:

Developer Herwill

Developer Herwill

Leave a Reply

Your email address will not be published.